আরও দেখুন
আজ মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ কমে যাওয়ায় স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে। মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়, যার ফলে স্টক মার্কেটে দরপতন ঘটে; এমতাবস্থায় বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ডের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে স্বর্ণের মূল্য 1.1% পর্যন্ত বেড়ে প্রতি আউন্স $4,142-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে, যার ফলে আগের সেশনের প্রায় পুরো দরপতন পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। রুপার মূল্য প্রায় 1% বেড়ে $56.15-এ পৌঁছেছে (এর আগের দিন এটির মূল্য $59.20 ছিল); এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্য বেড়েছে।
বুধবার মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) মাসিক ভিত্তিতে 0.6% বৃদ্ধি পাওয়ার পর—যা এপ্রিল মাসের পর সর্বোচ্চ হার—মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড (লভ্যাংশের হার) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টক বিক্রির চাপে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ায়, বন্ডের ইয়েল্ড অনেকটা কমে যায়। বন্ডের ইয়েল্ডের এই উল্লেখযোগ্য ওঠানামা আগের আকস্মিক বৃদ্ধিকে কার্যত মুছে ফেলে। বন্ডের ইয়েল্ড কমে গেলে স্বর্ণের মূল্য সাধারণত বাড়ে—কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না—অন্যদিকে, যারা বন্ডের ইয়েল্ড আরও বাড়ার প্রত্যাশায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
তবে, স্বর্ণের প্রতিকূল পরিস্থিতি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। ট্রেডারদের ধারণা, পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে—এমনকি এই মাসের শেষ নাগাদও তা ঘটতে পারে। এটি স্বর্ণের জন্য দুঃসংবাদ, কারণ ঋণের ব্যয় বেড়ে গেলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের মূল্য ২০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রানীতি কঠোর করতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচকের (CPI) ঊর্ধ্বগতির পেছনে মূল কারণ ছিল জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, তবে এর পাশাপাশি মূল মূল্যস্ফীতির চাপও জোরদার হয়েছে। শিকাগো ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি এই প্রতিবেদন "হতাশাজনক" বলে অভিহিত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, এআই খাতভিত্তিক অবকাঠামোগত ব্যয় মার্কিন অর্থনীতিকে অতিরিক্ত অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এখন সবাই ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছে, ২৭-২৮ অক্টোবরের বৈঠকের আগে ফেডারেল রিজার্ভের 'ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড' বা নীতিমালা সংক্রান্ত ব্যাপারে নীরব থাকার শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে, বিনিয়োগকারীরা ওয়ার্শের থেকে যেকোনো ইঙ্গিত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন।
ওয়ার্শের বক্তব্যের আগে স্বর্ণের দর $4,145-এর কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান যদি ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য কমতে থাকে, কেবল তখনই স্বর্ণের দর $4,200 ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ওয়ার্শ যদি হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেন, তবে বন্ডের ইয়েল্ড বাড়তে শুরু করবে এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হবে, যা স্বর্ণের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের চড়া দাম বিবেচনায়, আমার ধারণা—নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা হয়তো এর দরপতনকে পুরোপুরিভাবে থামাতে পারবে না, বড়জোর দরপতনের গতি কিছুটা মন্থর করে দিতে পারে।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,192-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,249-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,304 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,124 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,062-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,047 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।